
by Ahmed Arif
শুরুর আগে ফটিকের আবির্ভাব ফেসবুকে রসেবশে নামের এক আড্ডাতে। সেই আড্ডার সদস্যরা ভীষণ গুণী, অনেকে দারুণ লেখেন, অনেকে ছবি আঁকেন, অনেকে তিলকে তাল বানিয়ে বেশ কিছুক্ষণ মজা করে আবার তালকে তিল বানিয়ে ঠিক জায়গাতে রেখে দেন। এঁদের সবচেয়ে বড় গুণ কিছু ভালো লাগলে অকপটে বলে দেন — যদিও আমার সন্দেহ, ভালো না লাগলেও কপট ভাবেও ভালো লাগছে বলে দেন। ফটিক এঁদের ছায়াতেই বেড়ে উঠেছে। এঁরা যখন ফটিকের অত্যাচারে জর্জরিত, তখন বুদ্ধি করে বললেন, এটা বই হিসাবে ছাপলে কেমন হয়? সকলে তাহলে পড়তে পারে। অর্থাৎ কিনা আমরা একা ভুগি কেন, সকলে বুঝুক। ব্যস! সেই থেকে এই বই। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। অনেকে প্রশ্ন করেছেন — ফটিক কি সত্যি সত্যি কেউ, নাকি পুরোটা কল্পনা। ফটিক কিন্তু একেবারে সত্যি। মিথ্যাটা হল সে একজন কেউ নয়। যেটা আমরা কেউ ঘটতে দেখেছি, বা আরেকটু হলেই ঘটে যেত, অথবা ঘটাতে খুব ইচ্ছা করছিল, সাহস হয়নি, সে সব মিলিয়ে ফটিক — সেগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে এই ফটিক। আমাদের মনের মধ্যে এই ফটিক আছে বলেই বাদলা দিনে জোর হাওয়াতে ইচ্ছা করে ছাতা উলটিয়ে দিয়ে ভিজতে পারি, এদিক সেদিক তাকিয়ে খান চারেক রসগোল্লা খেয়ে ফেলি, বাড়ির বাইরে কলার খোসা দেখলে তাতে কেউ পা পিছলিয়ে পড়বে ভেবে এমনি এমনি হাসি, ছাগলের নাকে নস্যি দেবার কথা ভাবি, স্নান করার সময় সাবান চেপে ধরে দেখি সে পিছলিয়ে পালাচ্ছে কিনা, বাড়ি ফেরার পথে নিজেই ওই কলার খোসাতে পা পিছলিয়ে মিচকি মিচকি হাসতে পারি। সেই ফটিকের গল্প নিয়েই এই বই। এসব আপনাদেরই গল্প, আমি খালি সাজিয়ে দিয়েছি। আর ফটিকের গল্পের পেছনে সেই মাস্টারমশাইরা আছেন, যাঁরা শত অত্যাচারের পরও ভাষাকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন, দুষ্টুমিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, কিন্তু শালীনতার পাঠও দিয়েছেন দৃঢ় হাতে। আপনাদেরও কিন্তু মনে আছে — শ্রদ্ধা জানবেন। এরকম দুজন মাস্টারমশাইকে আমি আবার বাড়িতেও পেয়েছি। তাঁদের কাছেও ঋণস্বীকার করলাম।
No posts about this book yet. Be the first in the app!
Read it in the app
Highlight, save quotes, share what you read